ঢাকা, সোমবার:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) “নতুন বাংলাদেশ” গঠনের লক্ষ্যে নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক গঠনের ঘোষণা দিয়ে ২৪ দফার ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
গতকাল রোববার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, গ্রাম পার্লামেন্ট, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক শিক্ষানীতি, নারীর অধিকার, কৃষক-শ্রমিকের সম্মান ও প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিকের অঙ্গীকার
এনসিপির নেতারা বলেন, “উপনিবেশবিরোধী লড়াই, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতির সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। পুরাতন কাঠামো ঝেড়ে ফেলে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।
দলটির ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এই নতুন সংবিধান একনায়কতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করে একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করবে। এতে ব্যক্তির জীবন, জীবিকা, মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ, আইন–বিচার–নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার বিভাজন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইশতেহারের প্রধান দফা সমূহ
-
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার।
-
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার।
-
ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার।
-
দুর্নীতি দমন ও সেবামুখী প্রশাসন।
-
গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
-
স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ।
-
সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা।
-
নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন।
-
কৃষক-শ্রমিকের সম্মান ও অধিকার।
-
প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত।
-
টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব।
-
বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি ও জলবায়ু রক্ষা।
শিক্ষানীতি: দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন
ইশতেহারে বলা হয়, শিক্ষা পণ্য নয়, মৌলিক অধিকার। বাজেট বৃদ্ধি করে দক্ষ, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করা হবে।
প্রধান উদ্যোগ সমূহ:
-
বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল ও চিকিৎসা শিক্ষায় শক্ত ভিত তৈরি।
-
প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব।
-
উচ্চশিক্ষায় মানসম্মত গবেষণাকে অগ্রাধিকার।
-
বাংলা মাধ্যম, মাদরাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের যৌক্তিক সমন্বয়।
-
আধুনিকায়িত জাতীয় পাঠ্যক্রম প্রণয়ন।
-
কর্মমুখী, বৃত্তিমূলক, নার্সিং ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ।
-
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অবকাঠামো, উপকরণ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত।
-
শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণ।
-
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ।
অন্যান্য প্রতিশ্রুতি
-
গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব।
-
ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা রক্ষা।
-
তারুণ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
-
জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নগর পরিকল্পনা।
-
পরিবহন ও আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পনা।
-
নদী-সমুদ্র রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা।

0 মন্তব্যসমূহ