শিবির থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা ছিল সবচেয়ে আগ্রাসী: সাবেক ছাত্রনেতাদের বিস্ফোরক মন্তব্য

Three men stand in a circle, with the word "India" prominently displayed above them.




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, শিবির থেকে গুপ্তভাবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করা কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি সহিংস ছিল এবং হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান আরেক সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা মাহিন সরকার এবং সাবেক সমন্বয়ক আরমান হোসেন। তারা বলেন, “শিবিরের প্রাক্তন সদস্যরাই ছাত্রলীগে মিশে গিয়ে গেস্টরুম নির্যাতন, শিবির ট্যাগ দিয়ে সহপাঠীদের ওপর দমন-পীড়নে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

এই স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেয় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি জানায়, “সমন্বয়ক কাদের, মাহিন ও আরমানের বক্তব্য আমাদের বহুদিনের অভিযোগকে সত্য প্রমাণ করে। তারা সাহস করে সত্য তুলে ধরেছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

ছাত্রলীগের দাবি, শিবির-ছাত্রদলের অনুপ্রবেশকারীরা হল ও ক্যাম্পাসে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে। এদের মাধ্যমেই আবরার ফাহাদ হত্যা, গেস্টরুম নির্যাতনসহ একাধিক অপকর্ম সংগঠিত হয়।




একই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই বিজয় একাত্তর হলে যে হামলার ঘটনা ঘটে, তার পেছনেও এই গুপ্ত শিবির সদস্যদের হাত রয়েছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলা হয়েছে। আরমান হোসেন দাবি করেন, “ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে শিবির-ঘরানার কর্মীরাই পাল্টা হামলা করে ছাত্রলীগকে দায়ী করার চেষ্টা করেছে।”

মাহিন সরকার এবং আরমান হোসেন—উভয়েই সেই ঘটনার পর পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেছিলেন, যেখানে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি শাখার নেতৃবৃন্দ, এবং মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ছাত্র সমাজ, সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, ছাত্র রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকা উন্মোচনে এ বক্তব্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে