হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা চার রাস্তা মোড়ের মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনছবি: সংগৃহীত




টাকা ধার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মোশারফ হোসেন (৪২) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন নাজমা আলমকে (৫১)। পরে তাঁর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে হত্যার আলামত নষ্ট করে চলে যান। তবে ঘটনার পর হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে তিনিও নাজমা আলমের বাড়িতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার দাবি জানান। ঘটনার ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে, মোশারফ হোসেনই ছিলেন হত্যাকারী।

ঘটনাটি ঘটে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায়। মোশারফ হোসেন ওই এলাকার বেতকা চার রাস্তার মোড়ের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন।

মঙ্গলবার আদালতে নাজমা আলম হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মোশারফ হোসেন। টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত আটটার দিকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তদন্তে মোশারফ হোসেনের ওপর সন্দেহ তৈরি হলে সোমবার তাঁকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জানান, রোববার সকালে তিনি নাজমা আলমের কাছে টাকা ধার চাইতে যান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় মোশারফ তাঁর হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার দেখতে পান। পরে চা পান করার পর হাত ধোয়ার অজুহাতে বেসিনের কাছে গিয়ে হাতুড়ি নিয়ে নাজমা আলমের মাথায় আঘাত করেন।

আঘাতে নাজমা আলম অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁর দুই হাতে থাকা দুটি স্বর্ণের বালা, গলায় থাকা একটি স্বর্ণের লকেটযুক্ত চেইন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেন মোশারফ। পরে নাজমা আলম গোঙাতে শুরু করলে তিনি গামছা দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে পুলিশকে জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ আরও বলেন, হত্যার আলামত নষ্ট করতে তিনি বাড়ির সিসিটিভির ডিভিআর মেশিন খুলে নেন এবং মনিটর ভেঙে ফেলেন। পরে এগুলো এলাকার একটি নালায় ফেলে দেন। এরপর মসজিদে তাঁর থাকার জায়গায় গিয়ে রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে ফেলেন। পরে আবার নাজমা আলমের বাড়িতে গিয়ে অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিশে ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।


পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সম্মতি জানান। মঙ্গলবার তাঁকে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ শহরের থানা পাড়া এলাকা থেকে সন্তোষ কর্মকার নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, মোশারফ লুট করা স্বর্ণালংকার তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে সন্তোষ কর্মকারের কাছ থেকে ওই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া বিশ্বাস বেতকা চার রাস্তার মোড়ের জামে মসজিদে মোশারফ হোসেনের বালিশের নিচ থেকে ২৬ হাজার ৩২০ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত পোশাক হিসেবে সন্দেহ করা পায়জামা-পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়েছে।