গত ১০ মাসে দেশে ১২৩টি খুন: রাজনীতি নয়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধই মূল কারণ
গত ১০ মাসে (২০২৪ সালের ৭ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৭ জুন পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট ১২৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা। তাদের দাবি, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা সংগঠিত।
এনসিপির দাবির পেছনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক একজন গবেষক ও সাংবাদিকের সহায়তায় বাংলা আউটলুক একটি বিশ্লেষণ চালিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষণে কী উঠে এসেছে?
-
১২৩টি খুনের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ২১টি ঘটনায় বিএনপির নাম বিতর্কিতভাবে উঠে এসেছে।
-
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, অধিকাংশ খুনের কারণ দলীয় নয়; বরং পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যবসায়িক আধিপত্য ও স্থানীয় গোষ্ঠীগত সংঘাত থেকে এসব ঘটনা ঘটেছে।
-
অনেক ঘটনার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।
-
রাজনৈতিক পরিচয় কোনো কোনো ঘটনায় থাকলেও, বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক বা পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষ ও অন্যান্য কারণ বিশ্লেষণ:
-
৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে দুই পক্ষের সংঘর্ষে।
-
অনেক ঘটনায় খুন হয়েছে চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে।
-
আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ঘটেছে বহু হত্যাকাণ্ড।
সংবাদ বিশ্লেষণে বিভ্রান্তিকর তথ্য:
-
২০টি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
-
১৩টি প্রতিবেদনে রয়েছে তথ্যগত ভুল।
-
৫৯টি রিপোর্ট ছিল তথ্যগতভাবে সঠিক।
উপসংহার:
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেড়ে যাওয়া সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা ভুল হবে। বাংলা আউটলুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব। তথ্য যাচাই ছাড়া রাজনৈতিক দোষারোপ করা বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ