ড. ইউনূসের উসকানির জবাবে মোদীর কৌশলগত পাল্টাঘাত, বাংলাদেশের একচেটিয়া দাবিকে চ্যালেঞ্জ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে পাশ কাটিয়ে সমুদ্রপথে একটি বিকল্প করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই করিডোরটি যুক্ত হবে শিলং থেকে শিলচর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চার লেনবিশিষ্ট একটি নতুন হাইওয়ের সঙ্গে, যা ভারতের জাতীয় মহাসড়ক ৬-এর অংশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, এই প্রকল্পকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও "অ্যাক্ট ইস্ট" কৌশলের জন্য একটি গেমচেঞ্জার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন করপোরেশনের (NHDICL) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এটি শুধুমাত্র একটি দ্রুতগতির মহাসড়ক নয়, বরং পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবেও বিবেচিত হবে।
প্রকল্পের কূটনৈতিক পটভূমি
এই করিডোরের পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক হিসাবও। ২০২৫ সালের মার্চে বেইজিংয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারত ভূমিবেষ্টিত, এবং এই অঞ্চলের জন্য সাগরের একমাত্র পথ হচ্ছে ঢাকা।” এর প্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সময় ইউনূসকে বলেন, “এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।”
করিডোরের রূপরেখা ও সংযোগ
নতুন মহাসড়কটি ১৬৬.৮ কিমি দীর্ঘ, যার মধ্যে ১৪৪.৮ কিমি অংশ পড়বে মেঘালয়ে এবং ২২ কিমি আসামে। এটি মাওলিঙ্গখুং (শিলং-এর কাছে) থেকে শুরু হয়ে আসামের শিলচরের কাছে পাঁচগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। আশা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।
এই করিডোর যুক্ত হবে মিয়ানমার-ভিত্তিক কালাদান মাল্টি-মডাল ট্রানজিট প্রজেক্ট-এর সঙ্গে, যা কলকাতা বন্দরকে রাখাইন রাজ্যের সিত্তে বন্দর ও মিজোরামের লংতলাই হয়ে শিলচরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। নদীপথ ও সড়কপথ মিলিয়ে গড়ে উঠছে এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাটি।
ভারতের কৌশলগত উদ্দেশ্য
বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবেশের প্রধান করিডোর হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেনস নেক)। তবে বিকল্প পথে বাংলাদেশ হয়ে যাতায়াত প্রায় বন্ধ, কারণ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে বাংলাদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি সমুদ্রপথ এবং স্থলপথ ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে।
বাজেট ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ
প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২২,৮৬৪ কোটি রুপির বাজেট অনুমোদন করেছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় নির্মাণকাজ হওয়ায় এটি প্রকৌশলগত দিক থেকেও বেশ জটিল। ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে আধুনিক সেন্সর ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
এনএইচআইডিসিএল কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, "এই প্রকল্প কৌশলগত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, প্রকৌশলগত দিক থেকেও চ্যালেঞ্জিং। রাস্তাগুলোর বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ এবং এলাকা অত্যন্ত দুর্গম।

0 মন্তব্যসমূহ