আনচেলত্তি যুগের সূচনা: ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি এবার পূরণ হবে?
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর হতাশা ও প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে পড়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল। নেইমারদের কান্না, টাইব্রেকারে হারের তীব্র যন্ত্রণা—সব মিলিয়ে যেন আরেকটি অপূর্ণ অধ্যায়। ঠিক সেই সময় থেকেই বাতাসে ভাসছিল এক নাম—কার্লো আনচেলত্তি।
গুঞ্জন ছিল, নাটক ছিল, অপেক্ষাও ছিল দীর্ঘ। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এলো—কার্লো আনচেলত্তিই হতে চলেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ।
এই ঘোষণা ব্রাজিলীয় ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রক্ষণভিত্তিক ইউরোপিয়ান দর্শন আর দক্ষিণ আমেরিকান রঙিন ফুটবল মিলে এবার জন্ম নিতে যাচ্ছে এক ভিন্ন রকমের সামঞ্জস্য। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) চাচ্ছে, ক্লাব ফুটবলে বহুমাত্রিক সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা আনচেলত্তির অভিজ্ঞতায় ভর করে তারা আবারও উঠবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মঞ্চে।
আনচেলত্তির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। শুধু বড় মঞ্চেই নয়, তাঁর কাজ শুরু হবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব দিয়েই—আগামী মাসে পেরু ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে। তার আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মৌসুম শেষ করবেন, তারপর ২৬ মে রিও ডি জেনিরোতে পা রাখবেন ব্রাজিলের দায়িত্ব বুঝে নিতে।
আকাশছোঁয়া চুক্তি, রাজকীয় সম্মান
আনচেলত্তির বেতন-সুবিধা দেখলে চোখ কপালে উঠতে পারে যে কারও। মাসিক প্রায় ৭ লাখ ডলার, বার্ষিক ৮৮ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, যদি ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতে, পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে পাবেন আরও ৫৫ লাখ ডলার!
তাঁর জন্য থাকবে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও জীবনবিমা সুবিধা এবং ইউরোপে থাকা পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় একটি প্রাইভেট জেট।
স্পষ্টতই, আনচেলত্তির ওপর ভরসা রাখতেই চায় ব্রাজিল। এই চুক্তি শুধু একজন কোচকে নিয়োগ দেওয়া নয়—এটি ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতিতে একটি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রতিফলন। ঐতিহ্যগতভাবে দেশীয় কোচে বিশ্বাসী ব্রাজিল এবার ভরসা রাখছে এক বিদেশি চিন্তাধারায়।
আনচেলত্তি কি পারবেন ‘সেলেসাও’র দায়িত্ব টানতে?
ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় ২০০২ সালে। এরপর কেটে গেছে দুই যুগ। প্রতি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চাপ, কিন্তু ফলাফল শূন্য। আনচেলত্তি এমন একজন কোচ, যিনি রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, চেলসি, পিএসজি, বায়ার্নের মতো ক্লাবগুলোতে ট্রফির পাহাড় গড়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল তাঁর জন্য নতুন মঞ্চ।
এখানে ক্লাব ফুটবলের মতো নিয়মিত খেলা, খেলোয়াড়ের সঙ্গে দৈনিক অনুশীলন, বা শক্ত স্কোয়াড কেনার সুযোগ নেই। তাকে গড়ে তুলতে হবে একটি দল—সীমিত সময়ের প্রস্তুতিতে, সীমিত সুযোগে।
এই চ্যালেঞ্জ কি পার করবেন পেরোতে? আনচেলত্তির বিচক্ষণতা ও কৌশলী মস্তিষ্ক কি জাতীয় দলের অস্থির ডাগআউটেও কাজ করবে?
শেষ কথা: স্বপ্ন আবারও শুরু হলো
ব্রাজিলের কোটি ভক্তের মতোই আনচেলত্তিকেও শুরু করতে হচ্ছে নতুন করে। তাঁর আগমনে বদলাবে শুধু কোচ নয়, বদলে যেতে পারে গোটা দৃষ্টিভঙ্গি—রক্ষণে শৃঙ্খলা, আক্রমণে স্বাধীনতা আর নেতৃত্বে শান্ত মাথার ছোঁয়া।
বাকি কাজ মাঠে বল গড়ানোর পর। তবে যাত্রাটা নিঃসন্দেহে শ্বাসরুদ্ধকর।
সেলেসাওরা কি এবার আনচেলত্তির হাত ধরে ছুঁতে পারবে সেই স্বপ্নের ট্রফি?


0 মন্তব্যসমূহ