‘সস্তা বাংলা সিনেমা’, নেটফ্লিক্সের তালিকার শীর্ষে
গল্পের শুরু-শেষ কিছু নেই, অভিনয়ও তেমন কিছু নয়। চিত্রনাট্যের কোনও শক্ত ভিত্তি নেই, যা খুশি তাই ঘটছে। এমন সিনেমা দেখার পর অনেক সময়ই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে, “এটা তো সস্তা বাংলা সিনেমা”।
রোডলফি লাউগা পরিচালিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে ফ্রাঙ্ক, যাকে পর্দায় অভিনয় করেছেন গিওম ক্যানে। গল্পটা বেশ পুরনো—একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ফ্রাঙ্ক চাকরি হারান। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, তাঁর চাকরি হারানোর পেছনে রয়েছে একটি খ্যাতনামা অপরাধী দল। তারপর একভাবে ফ্রাঙ্কের কাছে এসে পড়ে অপরাধীদের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সেই প্রমাণ হাতানোর জন্য তারা ফ্রাঙ্কের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অপহরণ করে। এই ধরনের গল্প পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রচুর সিনেমা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কোনটা যে ভালো, সেটা গুনে বের করা কঠিন।
গল্পের নতুনত্ব কিছু নেই, চিত্রনাট্যেও নেই কোনও চমক বা বুদ্ধিদীপ্ত মোচর। আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলা যায়, সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যগুলোও একদম গড়পড়তা—একটি ছাদে ধাওয়ার দৃশ্য ছাড়া আর কিছুই মনে রাখার মতো নেই। এ ছবিতে কোনো ধরনের আবেগ বা পরিবারিক ভালোবাসা মিশিয়ে ভিন্ন মাত্রা আনার চেষ্টা ছিল, কিন্তু সেটা সফল হয়নি। ফ্রাঙ্ক এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সম্পর্কের যে রসায়ন দেখানোর চেষ্টা করেছেন নির্মাতা, সেটিও একেবারে অকার্যকর।
পরিচালক হয়তো ‘জেমস বন্ড’ বা ‘মিশন: ইমপসিবল’-এর মতো কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেটা হয়ে গেছে সস্তা বাংলা সিনেমা। 'অ্যাড ভিতাম' এর বাংলা অর্থ হতে পারে ‘জীবনের জন্য’। হয়তো নির্মাতার উদ্দেশ্য ছিল দেখানো, একজন ব্যক্তি পরিবারের জন্য কতটা সংগ্রাম করতে পারে, কিন্তু এই উদ্দেশ্যেও তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ।
ফ্রাঙ্ক চরিত্রটি মূল চরিত্র, তবে গিওম ক্যানের অভিনয়ও তেমন কিছু মনে রাখার মতো নয়। মুক্তির পর সিনেমাটির প্রতি সমালোচকদের মনোভাবও একেবারে নেতিবাচক। রটেন টম্যাটোজে মাত্র ৪২ শতাংশ সমালোচক ইতিবাচক রেটিং দিয়েছেন, গড় রেটিংও মাত্র ৪.৫।
তবে সবার মতামত ছাপিয়ে, সাধারণ দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি বেশ জনপ্রিয়। নেটফ্লিক্সের অ-ইংরেজি ভাষার সিনেমার বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে এখনও আছে 'অ্যাড ভিতাম'! সম্ভবত সহজ-সরল গল্প এবং সিনেমার স্বল্প দৈর্ঘ্যই এর কারণ, কারণ দর্শকরা এই ধরনের সিনেমা বেশি সময় ধরে সহ্য করতে চান না।

0 মন্তব্যসমূহ