পাকিস্তানে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জিহাদে জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের যুবকরা: একজন নিহত, একজন গ্রেফতার | ইসলামী উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ যুবকদের নিয়ে তদন্তে পুলিশ

পাকিস্তানে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জিহাদে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি যুবকদের মধ্যে নিহত একজন সাভারের জুবায়ের ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ফয়সাল। পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে টিটিপি-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এবং আরও কয়েকজন যুবকের বিদেশে জিহাদের প্রস্তুতির তথ্য।



বাংলাদেশের একাধিক যুবক পাকিস্তানে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার জিহাদে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (ATU)। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে গিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার সাভারের আহমেদ জুবায়েরসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সাভার থেকে ফেরত আসা মো. ফয়সাল (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ATU। তিনি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (TTP) সঙ্গে জড়িত বলে জানানো হয়েছে।

নিহত ও গ্রেফতারদের পরিচয়

নিহত জুবায়ের সাভারের আড়াপাড়ার বাসিন্দা এবং সাভার কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র। ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি ও ফয়সাল ওমরাহ পালনের কথা বলে সৌদি আরব যান এবং সেখান থেকে পাকিস্তান ও পরে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে জুবায়ের নিহত হন।SOO

গ্রেফতার ফয়সাল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার আমতলীর বাসিন্দা হলেও সাভারে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে “ভাই ব্রাদার্স টেলিকম” নামের একটি দোকানের মালিক।

মামলা ও তদন্ত

৫ জুলাই, সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। এরা হলেন—আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার, রেজাউল করিম আবরার, আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ ও সানাফ হাসান।

ATU ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) যৌথভাবে তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, টিটিপির মাধ্যমে জিহাদের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত ২৫ জন বাংলাদেশি যুবকের বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে সাভারেরই ছয়জন রয়েছেন।




কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ফয়সাল জিজ্ঞাসাবাদে জানান, টিটিপির দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ও জুবায়ের পাকিস্তানে যান। সেখানে টিটিপির সদস্য ইমরান হায়দারের সঙ্গে দেখা করে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে একটি অভিযানে সাইফুল্লাহ গোরাবা নামের বাংলাদেশি জঙ্গি ও তার পরিবারের সদস্যরা হতাহত হন। এ ঘটনায় ভয় পেয়ে ফয়সাল দেশে ফিরে আসেন। তবে জুবায়ের থেকে যান এবং অভিযানে নিহত হন।

পুলিশের বক্তব্য

ATU মিডিয়া উইংয়ের এসপি ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, “ফয়সালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি এবং শিগগিরই রিমান্ড চাওয়া হবে।”

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে পুলিশের পদক্ষেপ

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যারা এখনও এই পথে পা বাড়ায়নি, তাদের সচেতন করতে সমাজ ও পরিবারের ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।