নির্যাতনে ব্যবহার করা চেয়ার আরও যা ছিল হাসিনার আয়নাঘরে।
ঢাকায় তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। তিনি এসব বন্দিশালায় কেমন ভাবে নির্যাতন করা হতো এবং সেখানে বন্দী থাকা ব্যক্তিদের কষ্টের কথা শোনেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দিশালাগুলোতে খুপরি ঘর রয়েছে, যেখানে বাতাস ও আলো প্রবাহিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। সেখানে নির্যাতন করার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত চেয়ারও পাওয়া যায়। বন্দীদের দেয়ালে লেখা কিছু শব্দও সেখানে দেখা যায়।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ইউনূস গোপন বন্দিশালাগুলোকে নৃশংসতা ও বীভৎসতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ নামক শব্দটির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী প্রশাসনের অমানবিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।
গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, অনেক বন্দী মুক্তি পান। গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার ২৭ আগস্ট গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের রিপোর্টে জানানো হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ১,৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী ফিরে এসেছেন, কিন্তু ২৭ শতাংশ এখনও নিখোঁজ।
কমিশন জানায়, আটটি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পরিচালনা করত র্যাব, ডিজিএফআই, সিটিটিসি ও পুলিশ। অধ্যাপক ইউনূস ঢাকার আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরায় অবস্থিত তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন, যেখানে দুটি পরিচালনা করত র্যাব এবং একটি পরিচালনা করত ডিজিএফআই।
এ সময় তিনি বন্দিশালায় আটক থাকা মানুষের কষ্টের কথা শোনেন এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃশ্য দেখে বিস্মিত হন। তিনি বলেন, ‘‘এটা কি আমাদের সমাজের অংশ? এটা কি আমাদের পৃথিবী?’’
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘‘ভুক্তভোগীদের বিনা কারণে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো। এখানকার নির্যাতন কক্ষগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। কিছু জায়গায় ধারণাও করা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজ থেকে দূর করা না হলে সমাজ টিকবে না। অপরাধীদের বিচার করা, প্রমাণ রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
বন্দিশালায় একসময়ের বন্দীদের কথা শোনেন অধ্যাপক ইউনূস। মাশরুর আনোয়ার চৌধুরী নামক এক ভুক্তভোগী বলেন, ২০২০ সালের মার্চে তাঁকে ১০ দিন বন্দী রাখা হয়েছিল, সে সময় তিনি জানতে পারেন, বন্দীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হত।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘‘নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।’’

0 মন্তব্যসমূহ